
নিজস্ব প্রতিবেদক
নেটওয়ার্কবিডি ডটকম
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, “৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার রূপরেখা দিয়েছিল, সেটিই আমাদের রূপরেখা। এর বাইরে আমরা কোনো রূপরেখা দেব না।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
‘হুমকির মুখে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট নামক একটি সংগঠন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা শাহাদাত হোসেন সেলিম।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মওদুদ বলেন, “চলমান আন্দোলনের ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে কোনো ধরণের আপস করবেন না বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, তিনি দেশে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে আমাদের আরো সজাগ করে দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। পরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। তারা (সরকার) আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিতে সংবিধানের নিয়ম মেনে যে একটি অস্ত্র আছে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার, সেটি করতে পারত। কিন্তু তাও করেনি। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, এখন দেশ চলছে মুখের ঘোষণায়।”
কোন আইনের বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন, সে জবাব তাকে দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই শীর্ষনেতা।
মওদুদ বলেন, “১৯৭৫ সালে সংবিধান সংশোধন করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ। সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন বাকশালের মতো একদলীয় শাসনের ভিন্নরূপ দেখছি আমরা। সংবিধান সংশোধন না করেও কীভাবে একদলীয় শাসনে দেশ পরিচালনা করা যায়, সেটি তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।”
“তারা (আওয়ামী লীগ) গণতন্ত্র চায়, বিরোধীদল চায় না। আইন চায়, কিন্তু দলীয় শাসন। এখন বিচারবিভাগের স্বাধীনতা আছে, বিচারকের নেই। বিচারবিভাগকে পৃথকীকরণের পর বিচারকরা আগের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।”
সভায় আরো বক্তব্য দেন, ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের উপদেষ্টা শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া এমপি, আবু নাছের মো. রহমতুল্লাহ প্রমুখ।